Poem by Siddartha Sankar Kalita / Translated into Bengali by Professor Dr. Masudul Hoq

 
———————- আসামের কবিতা ———————-
 
মূল: সিদ্ধার্থ শঙ্কর কলিতা
রূপান্তর : মাসুদুল হক
 
১.চিৎকার (The Scream)
 
হক বুক স্টলের বিক্রয়কর্মী, কোনো সময় না দিয়েই,
আমার ব্যাগে কিছু রাখে,
কাঁধের ব্যাগে ঝুলিয়ে বললেন:
স্যার, অনেক কষ্টে আমি আপনার কুড়মুড়ি নিয়ে এসেছি।
দয়া করে, এটিকে সযত্নে বহন করুন।
তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি বাড়ির দিকে রাস্তায় পা বাড়ালাম
এক ঝলকে দেখলাম
ডিউটিতে থাকা কয়েকজন পুলিশ রাস্তার পাশে বেবি স্ট্যান্ডের পেছনে আড়াল হয়ে লুকিয়ে আছে।
গেটটা খুলতেই আমি অবাক
আমার হতবিহ্বল কুকুর, শক্ত চেইন ছিঁড়ে,
রাস্তায় নেমে এসে ভয়াভয় চিৎকার করছে।
আমি আমার ঘরে ঢুকতেই
ঘরের সমস্ত আসবাব আমায় দেখে কেঁপে উঠলো।
দেয়াল-ঘড়ি মেঝেতে ধসে গেছে
যখন আমি কুড়মুড়ি রাখার জন্য বইয়ের তাকটির কাছে যাই
সমস্ত বই মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে
সেদিন সবচেয়ে উষ্ণ দিন ছিল।
আমি যখন ফ্যানটির স্যুইচ দেই
ওটি কাঁপতে শুরু করে,
কাঁপতে কাঁপতে আমার কপাল আঘাত করে
মেঝেতে টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
আমার কপাল থেকে উষ্ণ নুনের তরল ধারা
ঠোট গলিয়ে
নাকের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
আমি প্রমাণ-সাইজের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
ক্ষতের গভীরতা যাচাই করতে গিয়ে
জোর করে কান চেপে
একটা উদ্বেগজনক চিৎকার দিয়ে,
আয়নায় থেকে সটকে পড়ি।
 
 
 
২.নদী প্রেমিক (Lover of the river)
 
তিনি নদীকে ভালোবাসতেন
শান্তি ম্যানশনের উপর তলার বারান্দা থেকে নদীর দিকে চেয়ে থাকতেন
এবং মধ্যরাতে তিনি নদীর কাছে চলে যেতেন,
পাথরের উপর বসে নদী আর জলের কথা শুনে শুনে
তীরে ছুটে আসা মিষ্টি শব্দে
তিনি নদীকে জড়িয়ে ধরতে চাইতেন
জলের ধারা কোমল স্পর্শে তার পা ছুঁয়ে দিতো।
নদী ও তার সমস্ত বেদনার ভার কাঁপিয়ে তিনি ভোর হওয়ার আগেই ফিরে আসতেন।
দিনের পর দিন চলতে থাকা এ ঘটনায় বারান্দাই তার একমাত্র সাক্ষী হয়ে ওঠে।
সেদিন তিনি হঠাৎ উধাও হয়ে গেলন
এ খবরে সবচেয়ে বেশি দুঃখ পেয়ে নিশ্চুপ হয়ে যায় বারান্দা।
যদিও তিনি নদীর প্রেমিক ছিলেন,
তবে নিজের একাকীত্বের বেশিরভাগ সময় বারান্দার সাথেই ভাগ করে নিয়েছিলন
নদীটিও অশ্রু সিক্ত হতে হতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে;
যখন জানতে পারে বারান্দা তার নিখোঁজ হওয়ার সমস্ত দায় নদীকেই চাপিয়ে দিচ্ছে।
 
 
 
৩.একটা ক্ষুদ্র নদী খনন করা হচ্ছে (Digging a rivulet)
 
মাজিদ মাজিদি একটি ক্ষুদ্র নদী খনন করছে
মোহাম্মদের ব্রেইল আঙ্গুল দিয়ে।
দূরে ভেসে ওঠা বা প্রবাহিত হ‌ওয়া
খটর খটর
খটর খটর
কাঠঠোকরা পাখির ঠোকরমুখর ছন্দে।
আমরা যেমন বিবেচনা করেছি,
সূর্যের সাতটি রঙ নেমে এসেছে আমাদের চশমাতে
আমরা আমাদের খোলস বদলে নিই
এই পরিবর্তনের কালে, আমরা হারুকি মুরাকামির সঙ্গে দেখা করি
এবং একটি বোধি-নদী খননে মনোনিবেশিত হ‌ই।
সে ছিল কালো চাঁদ বা রেমব্র্যান্ডের আলো।
ভ্যান গগ আমাদেরকে সরিষা ফুল ও বীজের দাবী ভুলিয়ে দেয়
আমরা ঘুমিয়ে পড়ি, বছরকে বিদায় জানিয়ে অথবা না জানিয়ে।
স্বপ্নে,
রিমা-র চলচ্চিত্রের রকস্টারেরা এসেছিল
সূর্যের সাতটি ঘোড়ায় চেপে
এবং খালি চশমায় নববর্ষের অনুসন্ধান করে গেছে
ক্ষুদ্র নদীর পাশ দিয়ে …
 
 
 
৪.হায়াগ্রিভা (The Hayagriva)
 
হায়ামেদের হ্রেষাধ্বনিতে
ঘোড়ার হুঙ্কারের মতো ঘণ্টা
ঘুমন্ত ছিল দ্রোণের স্ত্রী।
স্বপ্নের হ্রেষাধ্বনিতে
আমার ছোট মেয়ে চক দিয়ে স্লেটটি ঘষে ঘষে
ঘোড়ার ঘাড় লম্বা করে তোলে!
উচু, আরো উচু এবং আরো উচুতে ছড়িয়ে পড়ে
জল
জল
জল
একটি ঘোড়া কাদা মাখানো
একটি পদ্ম তার মুখে ঝুলছে
আমার গ্রামের লোকেরা, ঘোড়ার মুখোশ তৈরিতে ব্যস্ত
দুই বৈপিত্র ভাই
অনেক নিদ্রাহীন রাত কাটিয়ে দেয়
“ভাওনা”-র নামে
এবার বেদকে পুনরুদ্ধার করা হবে
আমরা কেবল ঘোড়স‌ওয়ার
খোলের দশটি আঙুলের বাদনখেলায়
রাজা হায়াগ্রিভার প্রবেশের টঙ্কারের অপেক্ষায় থাকি।
(হায়াগ্রিভা: কবিতাটি একটি মিথের অবলম্বনে রচিত।
হিন্দু ধর্মে, ভগবান হায়াগ্রিভা হলেন ভগবান বিষ্ণুর অবতার,তিনি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দেবতা হিসাবে পূজিত হন।তার মানবদেহ এবং ঘোড়ার মাথা। উজ্জ্বল সাদা বর্ণের সাদা পোশাক পরে একটি সাদা পদ্মের উপর বসে থাকেন।
“ভাওনা” — আসামের ঐতিহ্যবাহী এক থিয়েটার ফর্ম; শ্রীমন্ত শঙ্করদেব প্রবর্তিত।
“খোল”–এক প্রকারের ড্রাম, এটি ভাওনা লোকনাট্যে প্রতিটি চরিত্র মঞ্চে প্রবেশের সময় বাজানো হয়।)
 
 
 
৫.ডালিজম (Dalism)
 
আকাশ ছুঁয়ে অথবা একে বাঁকা করে দেখার প্রবল ইচ্ছা
ঘরবাড়ি ফুটছে
বাড়ির উপর বাড়ি
বাড়ি, বাড়ি,আর বাড়ি
ঘণ্টা বাজিয়ে
ফুটপাথে বা তার পাশাপাশি কোনো পথচারী অজ্ঞান
হিট স্ট্রোক!
ছায়া নেই
ছায়া নেই
মায়া শহরে কোনো ছায়া নেই
ব্যালকনিগুলো অন্তর্বাসসমূহের ছায়া ঝুলিয়ে রাখে
আমরা আমাদের প্রেরণার সন্ধ্যাগুলো চশমাতে ভাগ করে নিই
বিজ্ঞাপন মঞ্চ থেকে নেমে,
জনপ্রিয় বিড়াল আমাদের হৃদয়ে হামাগুড়ি দেয়।
চিতার চকচকে দাঁতের আলোতে,
তাকে উভয় দিকেই তাড়া করে,
তার থলথলে নিতম্ব উজ্জ্বল হয়ে ওঠে
আমরা হারিয়ে যাচ্ছি অথবা একটি বাণিজ্য তরীতে আমাদের মন স্থির করি
খুব সকালে,
স্বপ্নের দরজা খোলা,
“গ্রেট মাস্টারবাটার” স্নানকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসে।
(* ডালিজম: সালভাদোর ডালি, একজন স্পেনীয় পরাবাস্তববাদী শিল্পী, তার মতবাদ হচ্ছে ডালিজম। ‘দ্য গ্রেট মাস্টারবাটার’: সালভাদোর ডালির বিখ্যাত পেইন্টিং)
মূল থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ:গায়ত্রী দেবী বরঠাকুর
——— ———- ——— ———-
 
 
সিদ্ধার্থ শঙ্কর কলিতা (Siddartha Sankar Kalita)
সমকালীন অসমিয়া কবি।কবিতার জন্য ২০১৭ সালে দৈনিক অসম পত্রিকা প্রদত্ত সম্মানজনক পুরস্কার ‘দৈনিক অসম সাহিত্য বোটা’ অর্জন করেছেন। তাছাড়া তিনি লোকনাট্য ‘ভাওনা’ বিষয়ে বিশেষ আগ্রহী এবং আসামের স্থানীয় গ্রাম থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত।’পালিথিনোর ধোরকৌড়ি’ এবং প্রফেসর প্রদীপ আচার্য কর্তৃক অনূদিত ‘Taming the Sea Horse”–তার দুটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।
 
 
 

Translated into Bengali by Professor Dr. Masudul Hoq

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s