Part II – A Preface to Postmodern Philosophy (উত্তরাধুনিক দর্শনের পূর্বপাঠ) / By: Shikdar Mohammed Kibriah,

 
Shikdar Mohammed Kibriah
 
 
A Preface to Postmodern Philosophy
 
Part-2
 
A life based on superstition, irresponsibility, unconsciousness or one-linear thinking and consciousness is not a proper human life. Because, there remains confusion in the realization of pure consciousness, nature of freedom and construction of practical life philosophy. For a logical reason, this sense of life is inferior to the semi-conscious. In order to realize and practice a free-thinking philosophy of life free from the preconceived notion of linear thought and consciousness, our sense of life and cognitive consciousness has to be constantly examined. This criticism of life is philosophy. A real and honest knowledge-seeker should aim at a mindset and mindfulness free from entrenched consciousness, superstition and tradition.
Due to human intellectual limitations or lack of knowledge who become skeptical about the ultimate and spontaneous solution to various worldly and lively fundamental questions and think unrealistic and impossible and from such skeptical mentality consider mere observation, experimentation and sensation as knowledge, they must have a clear idea about the nature and scope of knowledge.
In this context, what is knowledge, where is the difference or relation of belief and imagination with knowledge, etc., is inevitably considered. The questions that arise in philosophy are not related to the individual’s will or reluctance, but are inextricably linked with its essence or nature. Despite the hostile attitudes of various quarters philosophy has existed in its glory for more than two and a half thousand years because of its closeness with humanity.
Epistemology, logic, ontology, cosmology, ethics and axiology – these branches of philosophy discuss and study various fundamental issues related to the world and life. Some of these seem seemingly very abstract and unrelated to the material needs of life, but these are in nature dependent on each other. But a real study of this interdependence it is practically impossible to understand the life and its value to formulate a useful life philosophy of the world in the knowledge-consciousness of its nature and scope.
In the history of Western philosophy, we see that real philosophy developed at two different times before the advent of modern philosophy. The first period was created through the philosophy of Plato and Aristotle. The philosophical doctrines of Plato and Aristotle truly fascinated the ancient world. The later ancient philosophy of Plato and Aristotle can be said to be the neo-application, commentary, critique, change or revision of their philosophy. Efforts to practice independent and self-sufficient philosophy out of the basic ideas and concepts formulated by them are not observed. The philosophic thought of Plato and Aristotle was not only the solution to the problems of life in Athens in the fourth century BC, but also continued to be the inspiration and basis for the legal, social, political, literary and aesthetic activities of the post-ancient period.
St. Thomas Aquinas made significant contributions to medieval philosophy. Christian thought continued to advance around Thomas’s philosophy. The philosophy of St. Thomas was considered a satisfactory solution to the problems that arose in Christendom until the emergence of modern philosophy and the beginning of a revolutionary change in human attitudes and thinking.
We certainly do not want to return to ancient or medieval philosophy in the present postmodern age. But this does not mean that we will deny or ignore the importance of these thoughts of the past. The progressive world of our thought has advanced on the basis of their good start and formulation of the thought of knowledge. To deny this traditional basis is to deny the roots. Again, indiscriminate obedience to their thoughts will be against the independent practice of knowledge, conservative and anti-progressive. In a combination of eternal truth and human values with zeitgeist how Plato-Aristotle built the edifice of ancient philosophy and St. Thomas advanced medieval thought, we have to practice knowledge of philosophy being inspired by that way of philosophical history and tradition that is practically useful for the formation of postmodern era. Modern philosophy is the originator of the revolutionary movement, leaving it incomplete postmodern thought has emerged.
The problems identified by Descartes, Locke, and Leibniz — Kant, who offered coordinated solutions; We are still thinking about them. The cultural ideology that Bacon planned at the beginning of modern thought, and later Fikht refined into a higher form is undeniable in today’s thought.
Therefore, in the context of postmodern philosophy, we need to study the continuous history of modern philosophy and identify its positive and negative aspects, including the recognition of the revolutionary contribution of modernity. Postmodern philosophy must move forward with the aim of integrating the humane and benevolent strategies to overcome the crisis of modernism. But not rejecting modernity indiscriminately rather the positive aspects of modernity like freedom of thought, freedom of speech, democratic value, individuality, liberality, civility, scientific sense etc. must be integrated and added the fundamental and eternal human values on which human civilisation is really stood and stable but ignored by Modernism. Only following this procedure of reconstruction, we can have a realistic text of forming postmodern philosophy.
 
[Upcoming part-3]
 
 
 
উত্তরাধুনিক দর্শনের পূর্বপাঠ
 
দুই.
 
অন্ধবিশ্বাসভিত্তিক, দায়িত্ব-অসচেতন বা একরৈখিক চিন্তা-চেতনায় যাপিত জীবন যথার্থ মানবজীবন নয়। কেননা, এ-তে শুদ্ধ চেতনার উপলব্ধি, স্বাধীনতার স্বরূপ অনুধাবন ও প্রায়োগিক জীবনদর্শন নির্মাণে বিভ্রান্তি থেকে যায়। যুক্তিসংগত কারণেই এ-জীবনবোধ অর্ধচেতনাসম্পন্ন নিম্নমানের। একরৈখিক চিন্তা ও চেতনার পূর্বপ্রতিষ্ঠিত ধারণা থেকে মুক্ত একটি মুক্তবুদ্ধিবৃত্তিক জীবনদর্শনের উপলব্ধি ও অনুশীলনের জন্যে আমাদের জীবনবোধ ও জ্ঞানগত চেতনাকে প্রতিনিয়ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সমালোচনা করতে হয়। এ-ই জীবন-সমালোচনাই দর্শন। বদ্ধমূল চেতনা, কুসংস্কার আর প্রথাবদ্ধতা থেকে মুক্ত মানসিকতা ও মননশীলতাই একজন প্রকৃত ও সৎ জ্ঞান-অনুসন্ধিৎসু মানুষের অভীষ্ট হওয়া উচিত।
মানুষের বৌদ্ধিক সীমাবদ্ধতা বা জ্ঞানশক্তির ঘাটতির কারণে জাগতিক ও জীবনধর্মী বিবিধ মৌল প্রশ্নের চুড়ান্ত ও স্বতঃসিদ্ধ সমাধান অবাস্তব ও অসম্ভব বলে যারা সংশয়ী হয়ে পড়েন এবং এ-ধরনের সংশয়বাদী মানসিকতা থেকে নিছক প্রত্যক্ষণ, পরীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণকেই জ্ঞান বলে গণ্য করেন, তাদের জ্ঞানের স্বরূপ ও সীমা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক।
এ আবশ্যকতায় জ্ঞান কী, জ্ঞানের সঙ্গে বিশ্বাস ও কল্পনার পার্থক্য বা সম্পর্ক কোথায় ইত্যাদি অনিবার্যভাবেই বিবেচ্য। দর্শনচিন্তায় উদ্ভুত প্রশ্নাবলী ব্যক্তিক ইচ্ছা-অনিচ্ছার সংগে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং তার মূল সত্তা বা স্বরূপের সঙ্গে অলঙ্ঘনীয়ভাবে সম্পৃক্ত। মানবসত্তার সঙ্গে দর্শনের এ-ঘনিষ্ঠতার কারণেই বিভিন্ন মহলের বিরূপ মনোভাব সত্ত্বেও আড়াই হাজার বছরেরও অধিক সময় ধরে দর্শন স্বমহিমায় অস্তিত্বশীল আছে।
জ্ঞানবিদ্যা(epistemology), যুক্তিবিদ্যা(logic), তত্ত্ববিদ্যা(ontology), বিশ্বতত্ত্ব(cosmology), নীতিবিদ্যা(ethics) ও মূল্যবিদ্যা(axiology)—দর্শনের এসব শাখায় জগৎ ও জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সমীক্ষা করা হয়। এগুলোর মধ্যে কোনটিকে আপাতদৃষ্টিতে খুবই বিমূর্ত ও জীবনের বস্তুগত প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কহীন মনে হলেও স্বরূপত একটি আরেকটির ওপর নির্ভরশীল। কেননা, জীবনকে বোঝা ও জীবনের মূল্য উপলব্ধি এবং জগতের স্বরূপ সম্পর্কিত জ্ঞান-চেতনায় জগতের উপযোগী জীবনদর্শন অবধারণ করা এগুলোর পারস্পরিক সাপেক্ষতা ছাড়া কার্যত অসম্ভব।
পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাসপাঠে আমরা দেখি যে, আধুনিক দর্শনের সূত্রপাতের আগে দুটি পৃথক সময়ে প্রকৃত দর্শনের বিকাশ ঘটেছিল। প্রথম সময়টি নির্মিত হয়েছিল প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের দর্শনের মাধ্যমে। প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের দার্শনিক মতবাদ প্রাচীন জগৎকে যথার্থই মুগ্ধ করেছিল। প্লেটো ও অ্যারিস্টটলোত্তর প্রাচীন দর্শন মূলত তাঁদেরই দর্শনের নব্য-প্রয়োগ, ভাষ্য, সমালোচনা, পরিবর্তন বা সংশোধন বলা চলে। তাঁদের প্রণীত মৌল ধারণা ও সম্প্রত্যয় থেকে বেরিয়ে স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ দর্শনচর্চার প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয় না। প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের সম্প্রত্যয় শুধু খ্রিস্টপূর্ব চার শতকের এথেন্সের জীবন-জগৎ বিষয়ক সমস্যারই সমাধান ছিল না, বরং প্রাচীন চিন্তা-পরবর্তী পর্বের আইনবিষয়ক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাহিত্যিক ও নান্দনিক কর্মকাণ্ডের প্রেরণা ও ভিত্তি হিসেবে অব্যাহত ছিল। মধ্যযুগে দর্শনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন সেন্ট টমাস একুইনাস। খ্রিস্টীয় চিন্তা অগ্রসর হতে থাকে টমাসের দর্শনচিন্তা ঘিরে। আধুনিক দর্শনের উদ্ভবের ফলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তা-চেতনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সেন্ট টমাসের দর্শনই খ্রিস্টীয় জগতে উদ্ভুত সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান বলে বিবেচিত হত।
বর্তমান আধুনিকোত্তর যুগে প্রাচীন বা মধ্যযুগীয় দর্শনচিন্তায় আমরা অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করতে চাইব না। কিন্তু এর মানে এ-ই নয় যে, অতীতের এসব চিন্তার গুরুত্বকে আমরা অস্বীকার বা উপেক্ষা করব। জ্ঞানচিন্তার যে শুভ সূচনা ও সূত্রায়ন তাঁরা করেছিলেন, তার ওপরই ভিত্তি করে এগিয়েছে আমাদের চিন্তার প্রগতিশীল জগৎ। এ ঐতিহ্যিক ভিত্তিকে অস্বীকার করা শেকড়কে অস্বীকার করার শামিল। আবার তাঁদের চিন্তার নির্বিচার আনুগত্য করা হবে স্বাধীন জ্ঞানচর্চার পরিপন্থী—রক্ষণশীল ও প্রগতিবিরোধী।
এজন্যে, শাশ্বত সত্য ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে প্রাচীনকালের যুগজিজ্ঞাসার সমন্বয়ে প্লেটো-অ্যারিস্টটল যেভাবে দর্শনের ইমারত গড়েছিলেন, সেন্ট টমাস যেভাবে মধ্যযুগীয় চিন্তাকে এগিয়ে নিয়েছিলেন; সে-ই দার্শনিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রেরণায় আমাদেরও জ্ঞানচর্চা করতে হবে আধুনিকোত্তর যুগ নির্মাণের উপযোগী দর্শনচিন্তায়। আধুনিক দর্শন যে বিপ্লবাত্মক আন্দোলনের প্রবর্তক, তা অসম্পূর্ণ রেখেই আধুনিকোত্তর তথা উত্তরাধুনিক চিন্তার উন্মেষ ঘটেছে। দেকার্ত, লক ও লাইবনিজ যেসব সমস্যাকে চিহ্নিত করেন—কান্ট যেগুলোর সমন্বয়ধর্মী সমাধান পেশ করেন; সেগুলো নিয়ে আমরা এখনও ভাবছি। আধুনিক চিন্তার সূচনায় বেকন যে সাংস্কৃতিক আদর্শের পরিকল্পনা করেন এবং পরবর্তীতে ফিখটে যেটির এক পরিমার্জিত ও উচ্চতর রূপ দেন—আজকের চিন্তাধারায়ও এর প্রভাব অনস্বীকার্য।
সুতরাং আধুনিকোত্তর দর্শনচিন্তায় আমাদেরকে আধুনিক দর্শনের ধারাবাহিক ইতিহাস অধ্যয়নপূর্বক আধুনিকতার বিপ্লবী অবদানের স্বীকৃতিসহ এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক সনাক্ত করতে হবে। নির্বিচারে আধুনিকতার বর্জন নয়, বরং আধুনিকতার পজিটিভ প্রবণতাগুলো যেমন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, উদারতা, সভ্যতা, মুক্তবুদ্ধিচর্চা, বিজ্ঞানমনস্কতা ইত্যাদিকে সমন্বিত করতে হবে এবং যুক্ত করতে হবে মৌলিক ও শাশ্বত মানবিক মূল্যবোধ যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে মানবসভ্যতা অথচ আধুনিকতাবাদ যেগুলোকে বর্জন করেছিল। পুনর্গঠনের এ পদ্ধতি অনুসরণ করেই আমরা অর্জন করতে পারি উত্তরাধুনিক দর্শন নির্মাণের প্রকৃতপাঠ। [চলমান]
 
শিকদার মুহাম্মদ কিব্রিয়াহ

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s