Poem by Umid Ali (Kuchimov) / Translated into Bengali by Professor Dr. Masudul Hoq

 
Poem by Umid Ali (Kuchimov)
 
 
—————– উজবেকিস্তানের কবিতা —————–
 
মূল:উমিদ আলী (কুচিমভ)
রূপান্তর : মাসুদুল হক
 
তুমি আর আমি (YOU AND ME)
 
এটি আমি– মূল থেকে কাটা এক গাছ,
এটি তুমি — নদী এক যে তার জলের উৎস হারিয়েছে।
এটি আমি — খেজুর বনের দম্পতি খেজুর,
এটি তুমি — চোখের ভেতরের কান্নার গ্লানি।
 
এটি তুমি — তারাদের কাছে এক দৃশ্যমান চাঁদ ,
এটি আমি — রাতের গভীরে একটি ডুবন্ত দিন।
এটি তুমি — ছোট নদী এক যার প্রান্ত হারিয়েছে,
এটি আমি — সুর থেকে বঞ্চিত একটি কণ্ঠস্বর।
 
এটি আমি — এক বেদনা যা হৃদয়কে ধ্বংস করেছে,
এটি তুমি — এক সাদা ফুল যা কাঁটা থেকে জেগেছে। ‌
এটি আমি — এক সাহসী মানুষ ভাঙা তরোয়াল হাতে,
এটা তুমি — এক বিধবা স্বামী ছাড়া আছো তাঁবুতে।
 
জীবনের বেদনা অন্তহীন… অনেক বেশি,
রঙ বিহীন আস্তিন ছাড়া একটি জীবন।
যখন তুমি চলে যাও, আমি প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাই,
আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারি না।
 
রঙের দর্শন
( PHILOSOPHY OF THE COLOURS)
 
১.
সাদা–
ভোরের নিঃশ্বাসে যে পাথর গলেছে,
কালো–
অশ্রু যা রাতের চোখ থেকে নেমেছে
হলুদ–
সেই রশ্মি যা দিনের হৃদয়কে চুমু খায়
লাল–
ঢোল যা সূর্যাস্তের সময় গর্জে ওঠে
সবুজ–
রায়ের রক্ত যা ​​ছড়িয়ে পড়ে
নীল —
শেষ গন্তব্য (ভূতের স্থান)
 
২.
পরিষ্কার হাসি — সাদা,
অঝোর কান্না — কালো,
অট্ট হাসি — নিরঙ্কুশ সাদা,
অশ্রু — পিচ কালো
অনুভূতি — সবুজ,
সংবেদন — লাল
ভালবাসা — সম্পূর্ণ সবুজ,
হৃদয় — একটি রশ্মি (ঈশ্বর)
জীবন — নীল,
বয়স — স্বর্ণ,
সত্তা — ঐশ্বরিক,
আত্মা– বর্ণহীন
জলভাণ্ড নয় জল হ‌ও
 
 
(DON’T BECOME A DISH BUT BE WATER)
জলভাণ্ড নয় বরং ভাণ্ডের অভ্যন্তরে জল হও।
 
–ব্রুস লি
এক আজলা জল …
যদি তুমি ছড়িয়ে দাও তবে এটি একটি উদ্ভিদে পরিণত হবে,
তারপর প্রেমীকদের বুক তৃণভূমি দিয়ে পূর্ণ হবে।
তুমি না চাইলেও
ঘাসে ভরে উঠবে উঠান,
সেই সময় তুমি চাইতে পারো,
এক আজলা জল হয়ে যেতে ?!
 
 
ভালবাসা (LOVE)
 
তুমি আমার শিকড়ে আগুন দিয়েছ,
দুঃখগুলো নিতান্ত একটি আত্মাকে জাগাতে পারে।
আমি নিজেকে নিজ থেকে আলাদা করেছি,
এবং বুঝতে পারলাম আত্মা কী।
আত্মা সুখ, একটি দেবদূত এবং সম্মান–
আঠারো হাজার জগতের এক স্রোত
যদি কোনো স্ফুলিঙ্গ আমার হৃদয়ে পতিত হয়,
তা কবি নাভয়ের এক দুর্দান্ত “হামসা”।
এখানে শরীর, এখানে একটি আত্মা, হৃদয় —
প্রেমের কারণে হাল ছেড়ে দিচ্ছে।
তুমি আমাকে কী কষ্ট দিয়েছ?
ভালোবাসা ছাড়া আমি নিঃশ্বাসও নিচ্ছি না।
 
 
জনশ্রুতি (PR OCESS)
 
ঘড়িটি…
ঘড়িটি শোকে ভরে উঠেছে,
মুহুর্তগুলো মানছে না (পাগল)
চার বেড়ার মধ্যে,
জীবন নিজের কাছেই বেমানান।
শীর্ষে হামাগুড়ি দিচ্ছে একটি নীরবতা,
আত্মা বাতাসে মিশে যাচ্ছে।
বিশ্ব আফসোসে ভরপুর,
বিদীর্ণ হচ্ছে …
বিদীর্ণ হচ্ছে …
কিন্তু কখন ?
যখন হৃদয় জাগে।
 
হাইকু :১
 
সান্ধ্য প্রেমসংগীত।
চেরি ফুলের ওপরে
প্রিয় মৌমাছি।
 
হাইকু :২
 
সকাল।
কালো আকাশ
মুছে যাচ্ছে সূর্যে।
 
হাইকু :৩
ঘুড়ি ওড়ে
আকাশে।
শৈশব আমাকে খুঁজছে।
 
হাইকু :৪
ঝড় আকাশের
হৃদয় কাটছে।
পরিষ্কার রক্ত ​​ঝরছে।
 
হাইকু :৫
বৃষ্টি…
বৈঠক নেই।
আমার প্রহরী হ’ল – ছাতা।
 
হাইকু :৬
শিশু ঘুমাচ্ছে।
ঘুমপাড়ানি গানে
দোলনা এখনো দুলছে।
 
হাইকু :৭
প্রকৃতি।
দিনের বেলা পৃথিবী ফোটে
আকাশ –মধ্যরাতে।
 
হাইকু :৮
সমস্ত হৃদয়ের দরজার
একমাত্র প্রাপ্য চাবি :
“হ্যালো”.
 
হাইকু :৯
ফুল একই কাজ করে–
তোমার মতো গন্ধ
ছড়ায় প্রিয়!
 
হাইকু :১০
সবুজ গাছ
করতালি দিয়ে
হাওয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করে।
 
হাইকু :১১
আমি একা,
তুমি একাকী।
একাকীত্ব একা নয়।
 
হাইকু :১২
কখনও আনুগত্য নয়
হয় আজ বা ভবিষ্যতে।
ধন্যবাদ, আমার অতীত!
 
হাইকু :১৩
তোমার প্রতিটি পলক
একটি পুরো বই।
হে প্রিয়!
 
হাইকু :১৪
কথাবার্তায় বাধা ছাড়াই
আমি নিঃশব্দে শুনছি
নীরবতা।
 
——————————————————————–
উমিদ আলী (কুচিমভ)/ Umid Ali (Kuchimov)/১৯৭৮ সালে উজবেকিস্তান প্রজাতন্ত্রের সমারকান্দ অঞ্চলের জাইসাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি সমারকান্দ স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করে উজবেক ফিলোলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৩ সালের নভেম্বর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে তিনি ক্রিয়েটিভ সেন্টার এলএলসি “ইরুডিট”-এর প্রুফ রিডার, বিভাগের প্রধান, সম্পাদক, সংবাদপত্রের উপ-সম্পাদক-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার প্রথম সাহিত্যকর্মসমূহ আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং প্রজাতন্ত্রের প্রকাশনাগুলিতে প্রকাশিত হয়। কবি উমিদ আলীর
প্রথম কাব্যগ্রন্থ “দিলমোহিম” ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়। কবি উমিদ আলী অনুবাদেও নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, রে ব্র্যাডবারি, গিয়ানী রোদারি, ইভান বুনিন, আভেটিক ঈশাখ্যান, আর্থার সামারি প্রমুখের রচনা উজবেক ভাষায় অনুবাদ করেছেন।তার কবিতা ও গল্প রাশিয়ান, ইংরেজি, ফরাসি এবং স্প্যানিশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
 
 

Translated into Bengali by Professor Dr. Masudul Hoq

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s