Poems by Federico García Lorca / Translated into Bengali by Kamrul Islam

 
লোরকা’র কবিতা
 
স্প্যানিশ কবি ও ন্যাট্যকার ফেদারিকো গার্সিয়া লোরকা স্পেনের গ্রানাডা প্রদেশের এক ধনাঢ্য জমিদার পরিবারে ১৯৯৮ সালের ৫ জুন জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যু ১৮ অথবা ১৯ আগস্ট, ১৯৩৬। তাঁর মাতা ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। আন্দালুসিয়ার গ্রামীণ পরিবেশে তিনি বড়ো হয়েছিলেন। নিসর্গবেষ্ঠিত এই সামাজিক পরিবেশ তাঁর সারাজীবনের সৃষ্টিকর্মকে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর ১০ বছর বয়সে তাঁর পরিবার গ্রানাডায় স্থানান্তরিত হয়। এখানের একটি সেক্যুলার প্রইভেট ইনষ্টিটিউট এবং ক্যাথোলিক পাবলিক স্কুলে লেখাপড়া শেষে তিনি গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন; কিন্তু সেখানে ছাত্র হিসেবে নয় বরং একজন অসাধারণ প্রতিভাবান পিয়ানোবাদক হিসাবে তিনি সুনাম অর্জন করেন । ব্যাচেলর ডিগ্রি নিতে তাঁর নয় বছর সময় লেগেছিল।প্রথম জীবনে ইচ্ছে ছিল মিউজিশিয়ান ও কম্পোজার হবার ; কিন্তু পরে ১৭/১৮ বছর বয়সে লেখালেখির দিকে ঝুঁকে পড়েন।মাত্র ১৯ বছর তিনি কবিতা ও নাট্যর্চ্চার সুযোগ পেয়েছিলেন। এই সময়ে তিনি স্প্যানিশ মূলধারার কবিতা ও নাটকের পুনরুত্থান ও তাতে প্রাণসঞ্চার করেন।তাঁর প্রাথমিক পরিচয় তাঁর আন্দালুসিয়ান সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে।এগুলোর মধ্যে কবিতা সংকলন ‘জিপসি ব্যালাডাস ’ (১৯২৮),ল্যামেন্ট ফর অ্যা বুলফাইটার’ (১৯৩৫), এবং ট্রাডেজিগুলোর মধ্যে ‘ব্লাড ওয়েডিং ’(১৯৩৩), ইয়েরমা’(১৯৩৪) এবং‘ দ্য হাউস অব বারনার্ডা আলবা ’ (১৯৩৬) উল্লেখযোগ্য। ১৯৩০ সালের শুরুতে লোরকা স্প্যানিশ থিয়েটারের দ্বিতীয় স্বর্ণযুগের সূচনা করেন। স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধ শুরুর প্রথম মাসেই ন্যাশনালিস্ট ফায়ারিং স্কোয়াডের সৈন্যরা গ্রানাডা প্রদেশের ভিজনার এবং আলফাকার এর মধ্যবর্তী কোন এক স্থানে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। মাদ্রিদে থাকাকালীন বিখ্যাত চিত্রকর সালভেদর দালির ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে আসেন তিনি।
 
 
ক্ষুদে বোবা বালকটি
————-
ক্ষুদে বালকটি খুঁজছিল তার কন্ঠস্বর।
(ঝিঁঝিঁ পোকাদের রাজার সেটা ছিল )
জলের ফোঁটায়
ক্ষুদে বালকটি খুঁজছিল তার কন্ঠস্বর।
 
আমি আমার ভাব প্রকাশের জন্য তা চাই না
আমি সেটা দিয়ে একটি আংটি বানাবো
যাতে আমার নীরবতা তার কনিষ্ঠ আঙ্গুলে
তা পরতে পারে।
 
জলের ফোঁটায়
ক্ষুদে বালকটি খুঁজছিল তার কন্ঠশ^র।
(ঝিঁঝিঁ পোকার পোষাক পওে বন্দী কন্ঠশ^ও ছিল
অনেক দূরে)
 
 
ছয় তার
—–
গিটারটিতে স্বপ্ন-কান্না ওঠে;
বিদেহী আত্মার ক্রন্দন তার গোলাকার
মুখ থেকে দূরে সরে যায়।
 
এবং ট্যারানটুলার মতো
এর কালো কাঠের পাত্রে ভাসমান
দীর্ঘশ্বাসগুলো ধরতে
এটি বয়ন করে অজস্র তারকা।
 
 
সূর্যোদয়ের আগে
————
কিন্তু ভালোবাসার মতোই
তীরন্দাজরা অন্ধ
 
নীল রাত্রিতে
বিদ্ধ তীর রেখে যায়
উষ্ণ লিলির চিহৃ।
 
চাঁদের স্থিরতা
রক্তরাগ মেঘ ফুঁড়ে বেরোয়
এবং তাদের তৃণীরগুলো
পূর্ণ হয় শিশিরে।
হ্যাঁ, কিন্তু ভালোবাসার মতোই
তীরন্দাজরা অন্ধ।
 
 
বিদায়
—-
যদি আমি মরি
বেলকনিটি খোলা রেখ।
 
ছোট্র বালকটি কমলালেবু খাচ্ছে
(বেলকনি থেকে আমি তা দেখছি)
 
পাকা গম কাটছে কৃষাণ
(আমি বেলকনি থেকে কর্তনের শব্দ শুনছি)
 
যদি আমি মরি
বেলকনিটি খোলা রেখ।
 
 
চন্দ্রগাথা
——
পুুস্পখচিত জামা পরে
গনগনে চুল্লীতে নেমে পড়ে চাঁদ
ছোট্র বালকটি তার দিকে তাকিয়ে আছে
কঠিন দৃষ্টিতে।
আন্দোলিত বাতাসে চাঁদ তার বাহু নাড়ায়
তার রয়েছে শক্ত টিনের স্তন
তাকে দেখাচ্ছে যৌনকাতর ও বিশুদ্ধ।
“চাঁদ,চাঁদ,চাঁদ, দৌড়াও!
যদি জিপসীরা আসে
তাহলে তারা তোমার হৃদপিন্ড দিয়ে
সাদা হার ও আংটি বানাবে।”
আমাকে নাচতে দাও,আমার ছোট্ট সোনা।
যখন জিপসীরা আসবে
তারা দেখবে তোমাকে নেহাই-এর’ পর
তারা দেখবে তোমার সতেজ বন্ধ চোখ।
“চাঁদ,চাঁদ,চাঁদ, দৌড়াও!
আমার মনে হচ্ছে উত্তরাধিকারের ঘোড়ারা আসছে
আমাকে থাকতে দাও, আমার ছোট্ট সোনা,
কঠিন ও শুভ্র পদক্ষেপে আমাকে মাড়িয়ে যেও না।
 
ড্রাম বাজাতে বাজাতে সহিসটি ক্রমশ নিকটে
আসছে, বালকটি এখন সেই চুল্লীতে
তার চোখ দুটি বন্ধ।
অলিভ বনের মধ্য দিয়ে আসছে জিপসীদের দল
তাদের মাথা উঁচু এবং চোখগুলো ঢাকা।
আহা,ঐ তো ডাকছে রাত্রির পেঁচা
গাছের আড়ালে সে ডেকেই চলেছে একাকী
ছেলেটিকে বাহুতে আটকে আকাশের দিকে
উড়ে যাচ্ছে চাঁদ।
 
তারা অগ্নি- চুল্লীতে বসে কাঁদছে
সমস্ত জিপসী কাঁদছে আর চিৎকার করছে
বাতাস দেকছে এইসব দৃশ্য
যেন বাতাসের কাজই দেখা।
 
 

Translated into Bengali by Kamrul Islam

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s